** যৌন বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব তৈরি হয়। যৌনতার যে একটি বড় পরিসর রয়েছে তা না বুঝে খণ্ডিতভাবে ভুল আর অসম্পূর্ণ জ্ঞানলাভ করে।
** এই আসক্তি নৈতিকতা আর ধর্মচর্চার পরিপন্থী।
** বিবাহিত জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে, যৌনস্পৃহার পরিবর্তন ঘটায়। বিকৃত যৌনচর্চার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
** আসক্ত হয়ে পড়লে দিনের একটা বড় সময় এ বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, চর্চা করে। ফলে পড়ালেখার মান খারাপ হয়, কর্মক্ষেত্রে কাজের মান কমে যায়। উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
** নিজেকে সামাজিক কাজগুলো থেকে গুটিয়ে রাখে, কখনো হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।
** আচরণের পরিবর্তন দেখা যায়, হঠাৎ করে রেগে ওঠে, মেজাজ খিটখিটে থাকে, বিষণ্নতা দেখা দেয়। পর্নোর প্রভাবে নানা সামাজিক বা যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
** মার্কিন গবেষক ড. জুডিথ রিসম্যান পর্নোকে ‘ইরোটোটক্সিন’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘পর্নোচর্চা করতে থাকলে মস্তিষ্কে ডোপামিন, এপিনেফ্রিন, এন্ডোরফিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের সাম্যাবস্থা নষ্ট হয়, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চিন্তা ও আচরণের সমস্যা দেখা দেয়।’
** আসক্ত ব্যক্তি জড়িয়ে যেতে পারে সাইবার অপরাধে বা নিজেও সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারে।
** পর্নো আসক্তি অনেক সময় অবসেসিভ কম্পালসিভ সমস্যা অথবা আবেগের বাড়াবাড়ির সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে। পর্নো আসক্তি থেকে জন্ম নিতে পারে মাদকাসক্তির মতো আরেকটি ভয়াবহ অসুখ।
প্রতিরোধ আর প্রতিকার
কিশোর-কিশোরীসহ যে কাউকে পর্নো আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হলে একদিকে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আবার অন্যদিকে কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে প্রতিকারও করতে হবে। এর জন্য যা যা করা যেতে পারে—
** সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক না হলে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে ইন্টারনেটের ব্যবহারের একটি পারিবারিক নীতিমালা তৈরি করতে হবে। যেমন দিনের নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা, কম্পিউটার, ট্যাব, মুঠোফোন প্রকাশ্য স্থানে ব্যবহার করা, দরজা আটকে এগুলো ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করা, বাথরুমে মুঠোফোন নিয়ে যেতে না দেওয়া।
** সন্তানকে তার বয়স উপযোগী যৌনশিক্ষা দিতে হবে। বাবা-মাসহ স্কুলের দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে বেশি। উঠতি বয়সে যৌন বিষয়ে আগ্রহ জন্মাবে। সঠিক আর বিজ্ঞানসম্মত যৌনজ্ঞান না থাকার কারণে পর্নো আসক্তি তৈরি হয়।
** পারিবারিকভাবে নৈতিকতার চর্চা বাড়ানো।
** পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের দায়িত্বশীলভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে। যৌক্তিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করুন। কারণ ছাড়া কম্পিউটার, মুঠোফোনের ব্যবহার পরিহার করুন।
** প্রয়োজনে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে হবে। বেশ কিছু সফটওয়্যার আছে, যা ব্যবহার করলে ওই ইন্টারনেটের লাইন থেকে বা নির্দিষ্ট মুঠোফোন থেকে কোনো পর্নোসাইটে প্রবেশ করা যাবে না। ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে পর্নো সাইটগুলো বন্ধ রেখে গ্রাহককে সেবা দিতে পারে। এ জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
** সন্তানদের গুণগত সময় দিতে হবে। বাবা-মা বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে, আড্ডা দিয়ে, খেলা করে, একসঙ্গে টিভি দেখে বা বেড়াতে গিয়ে যেন তারা আনন্দ পায়, সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের মধ্যে সুস্থ বিনোদনের চর্চা বাড়াতে হবে।
** সন্তানের এ ধরনের আচরণ দেখলে রাগ না করে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে, আসক্তির খারাপ দিকগুলো তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। এটি নিয়ে তাকে বক্রোক্তি, ব্যঙ্গ করা যাবে না।
** কেউ যদি নিয়মিত পর্নো দেখতে থাকে, তবে এই অভ্যাস দূর করার জন্য তাকে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি, কাউন্সেলিং, মোটিভেশনাল ইন্টারভিউইং, মাইন্ডফুলনেসসহ ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। মেডিটেশন, রিলাক্সেশন ইত্যাদির চর্চাও কমাতে পারে পর্নো আসক্তি। যদি মনে হয় কারও পর্নোচর্চার বিষয়টি আসক্তির পর্যায়ে চলে গেছে, তবে তা গোপন না করে, লুকিয়ে না রেখে যত দ্রুত সম্ভব মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হবে।
মূল লেখাটি পড়ুনঃ
লিখাঃ আহমেদ হেলাল
প্রথম আলো ০২ নভেম্বর ২০১৬, ০০: ৫০
ইমেজঃ গুগল
.jpg)